We need to ensure that the future of all girls and boys is secure and unmolested. Boys need to be taught how to respect the female of the species. Otherwise we fail as a civilization.
– Dr Ketaki Kushari Dyson (December 31, 2012)

“I don’t wait for moods. You accomplish nothing if you do that. Your mind must know it has got to get down to work.”
– Pearl S. Buck

“You must be the change you wish to see in the world.”
– Mahatma Gandhi

“Everyone has talent. What is rare is the courage to follow the talent to the dark place where it leads.”
– Erica Jong

“A man is but the product of his thoughts. What he thinks, he becomes.”
– Mahatma Gandhi

My Stories

লার্নিং সেন্টার

[প্রথম প্রকাশিত: প্রতীচী ,২০০৪, পূজা সংখ্যা]

বাজার করে ফেরার পথে মন্টুদার সাথে দেখা হল।
– এই যে সাহেব! কাল কখন বাড়ি পৌঁছলি?
– প্রায় রাত একটা হয়ে গেল।
– আমি রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত কাল তোদের ওখানে ছিলাম। বাজার রেখে চলে আয়, আড্ডা মারা যাবে।
– বিকেলে বাড়ি আছ? বিকেলে আসব। মাকে নিয়ে ভাবছি দুপুরে বেলা পুজোর বাজার কিছুটা সেরে আসি।

মন্টুদা আমাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয় – আমার মাসীর শ্বশুরবাড়ির দিকের। ও যখন আমাদের পাড়ায় ফ্ল্যাট কিনে এলো, তখন আমি ক্লাস টেন-এ পড়ি। মন্টুদা সবে আই.আই.টি থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে ইংলিশ ইলেকট্রিক-এ চাকরি নিয়ে ঢুকেছে। মা’র সাথে আলাপ হতেই মা মন্টুদাকে দেখিয়ে বলেছিলেন, – পায়ের ধুলো নে, যদি পড়াশোনায় একটু মন বসে। রাত দিন কেবল রেডিও আর রেডিও।

রেডিওটা সত্যিই আমার খুব প্রিয় ছিল। মাঝে মধ্যে ওটা বিগড়ে গেলে আমিই জোড়া-তাপ্পি দিয়ে আবার চালু করে দিতাম ‘অনুরোধের আসর’ শোনার জন্য। অনেক চেষ্টা করেও বাবাকে একটা গ্রামোফোন কেনাতে রাজি করাতে পারিনি। কারণ? আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে, তাই।

সেই দিন বিকেলে চলে গিয়েছিলাম রেকর্ড শোনার লোভে। ঘরে ডুকে আমার চক্ষু চরক গাছ! চারটে বড় বড় শেল্ফ ভর্তি বই আর একটা শেল্ফ ভর্তি গ্রামোফোন রেকর্ড। পরিপাটি করে গোছান। কে বলবে, কলেজ হোস্টেলে থাকা ছেলে, তার উপর ব্যাচেলার!

– কী শুনবে? আচ্ছা দাঁড়াও, তোমাকে আমার প্রিয় একটা কম্পোজিশন শোনাই। রেকর্ড বেছে গ্রামোফোনে রাখলেন মন্টুদা। এমন পিয়ানো আমি কখনো শুনিনি। মন্টুদাও তন্ময় হয়ে শুনছিলেন।
– শোপ্যাঁর ‘ব্যাল্যাড ইন জি মাইনর’, ওপস্‌ টুয়েন্টি-থ্রি, মন্টুদা একবার বললেন।
আমার তখন মনে হচ্ছিল যত বাজনা আমার জীবনে শুনেছি তার থেকে কত বেশী গভীর। রেকর্ডের কভারটা তুলে নিলাম দেখার জন্য। মন্টুদা বললেন, – আর্টর রুবিন্‌স্টাইনের বাজানো এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ পিয়ানো-বাদক।

সেই দিনের পরে আরও কত দিন মন্ত্রমুগ্ধের মত মন্টুদার বাড়ি গিয়ে রেকর্ড শুনেছি। কি দেশী, কি বিদেশী, মন্টুদা যেন প্রতিটি গানের, প্রতিটি বাজনার নাড়ী-নক্ষত্র সব মুখস্থ। মাঝে-মধ্যে মন্টুদার কাছে ফিজিক্স আর অঙ্ক বুঝতে যেতাম। মা টাকা-পয়সার কথা তোলাতে বলেছিলেন, – ছোট ভাইকে পড়িয়ে কেউ পয়সা নেয় মাসীমা?

অস্বীকার করব না, যাদবপুরে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চান্স পাওয়ার অনেকটা কৃতিত্ব মন্টুদার। মা আমাকে প্রায়শই সেটা মনে করিয়ে দিতেন।

মন্টুদাকে দেখেই বোঝা যেত যে ও খুব সিরিয়াস, স্টুডিয়াস গোছের মানুষ। মোটা চশমা, জামা-কাপড় কী পরছেন, যেন খেয়ালই করেন না। মাথার চুল যখন কাটতেন এমন ভাবে কাটতেন যেন তিন মাস সেলুনে যেতে না হয়। আমরা ছাড়া পাড়ার সকলেই বোধহয় ভাবতেন ওর মাথায় ছিট আছে। পাড়ার ছেলেরা চাঁদা চাইতে গেলে দিতে চাইতেন না। বলতেন, হাজার হাজার টাকা পুজোর জন্য খরচ না করে একটা ‘লার্নিং সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা কর। ‘লার্নিং সেন্টার’-এ গরীব ছেলেমেয়েরা এসে বিনে পয়সায় বই, দরকার হলে টিউটর পাবে। প্লেয়িং ফিল্ড-টাকে লেভেল করা দরকার সবার জন্য।

পাড়ার ফচ্কে‌ একবার বলেছিল, – দাদা, এতই যখন ‘লার্নিং সেন্টার’-এর শখ, তখন করন না ‘লার্নিং সেন্টার’। কে বারণ করছে? আমরা ত শুধু পুজোর চাঁদা পেলেই খুশী। তাড়াতাড়ি বার করুন। আরও অনেক বাড়ি যেতে হবে, দাদা…।

মন্টুদা সরোষে বলেছিলেন, -‘লার্নিং সেন্টার’ কি আমার জন্য করতে বলছি? আমি একা যদি করতে পারতাম তাহলে এতদিনে করে ফেলতাম। তোমাদের মধ্যে এত অর্গানাইজেশন স্কিল দেখি, তাই তোমাদের বলি।

মন্টুদা বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন। বরাহনগরে ওদের কয়েক পুরুষের ভিটে। ওর বাবা ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনট্রাক্টর। পৈত্রিক ব্যবসায়ে যাতে ঢুকতে না হয়, তাই মন্টুদা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়লেন না! প্রথম প্রথম ওর বাড়িতে সকলেই ওর উপর অভিমান করেছিলেন। ক্রমে ক্রমে মেনে নিয়েছিলেন ওর ইচ্ছে।

মন্টুদার কাছে আমি যেতাম যা বুঝিনি তা’ বোঝার জন্য, এবং যা বুঝেছি, তা’ নতুন করে বোঝার জন্য। অর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল স্বতন্ত্র। সব কিছু কেমন পরিষ্কার দেখতে পেতেন। বোঝাই যেত, ও অনেক পড়াশোনা করেছেন অনেক বিষয়ে। খুব গভীর অর জ্ঞান। আমাকে একদিন বললেন, – আর্ট এবং সায়েন্স-এর মধ্যে তফাতটা বুঝতে পারলে সত্যিকারের আর্টিস্ট হতে পারবি। আর্টিস্টরা সৃষ্টি করে। সায়েন্টিস্টরা ব্যাখ্যা করে। গানটা তো লতা মুঙ্গেস্কর বা সন্ধ্যা মুখার্জীর নয়, হয়তো বা ওদের গাওয়া।

তারপর বইয়ের শেলফ থেকে খবরের কাগজে মলাট দেওয়া, পুরনো একটা বই আমাকে দিয়ে বললেন, – এই বইটা পড় – উৎপল দত্তের লেখা। তোর ভাল লাগবে।

বইটা খুলে প্রথমেই বইয়ের নামটা পড়ালাম – ‘চায়ের ধোঁয়া’। বাড়ি ফিরে সারা রাত জেগে বইটা শেষ করলাম। পরদিন বিকেলে মন্টুদাকে বইটা ফেরত দিতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, – মন্টুদা, এত পড় কখন?
– আর কি করব বল? মার্ক টোয়েন বলতেন, ‘The man who does not read good books has no advantage over the man who can’t read them.’ আমি তা’ মর্মে মর্মে বিশ্বাস করি।

দিদির বিয়ে যখন ঠিক হল, মা প্রথমেই মন্টুদার কাছে গিয়ে বলেছিলেন, – মন্টু, এটা আমাদের বাড়ির প্রথম কাজ। পলাশকে তো তুমি জান। তুমিই আমার ভরসা। একটু দেখেশুনে কাজটা উদ্ধার করে দিও।

মা মন্টুদাকে ভীষণ স্নেহ করতেন। বলতেন, – ও আমার বড়ছেলে। একদিন আক্ষেপ করে বললেন, – মন্টুটা আর বিয়ে করল না!

সন্ধ্যাবেলা মন্টুদার বাড়ি চলে গেলাম। ওকে দেখে মনে হল, খুব ক্লান্ত। বসার ঘরটা কেমন যেন অগোছালো। তবে বই আর রেকর্ড-সিডি-ক্যাসেট-এর সংখ্যা বেড়েছে। বেশ কিছুক্ষণ মুখ দিয়ে কোন কথা বেরোল না। পুরনো সব দিনগুলোর কথা ভাবছিলাম।
– তোমার রেকর্ডের সংখ্যা তো দিন দিন বেড়েই চলেছে! শোন কখন?
– রেকর্ড কেনা কমে গেছে রে! এখনকার গান মনকে ছোঁয় না। বাংলা গান এখন যা শুনি, সবই পুরনো। সবাই এখন ‘জীবন-মুখী’ হয়ে উঠেছে রে। এই জীবনমুখীর তাড়নাতেই মনে হয় আমি মরণ-মুখী! আজকাল আবার এক নোতুন উৎপাত শুরু হয়েছে – বাংলা ব্যান্ড! মন্টুদার মুখটা কেমন থমথমে হয়ে উঠল। তারপর হঠাৎ কেমন একটা হাসি মন্টুদার মুখে দেখলাম। কেমন যেন বিষাদ মাখা। আবার এক গাল হেসে জিজ্ঞাসা করলেন, – তোর কলকাতায় বদলি হয়ে আসার কি হল? মাসীমার শরীরটা কিন্তু বেশ ভেঙে পড়েছে।
– চেষ্টা ত করছি। দেখি কবে হয়।

সেদিন আরও কিছুক্ষণ আড্ডা মারার পরে উঠতেই হল। পরদিন ভোরে উঠে খুড়তুত-জাঠতুত ভাইবোনেরা মিলে পিকনিক করতে যাব। মন্টুদারও যাবার কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত শ্রীর ভাল নেই বলে আসবেন না বলেছিলেন। দরজা পর্যন্ত এসে, সাহস করে জিজ্ঞাসা করলাম, – তুমি বিয়েটা আর করলে না!
আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে মন্টুদা ম্লান হেসে জিজ্ঞাসা করলেন,- বাঙ্গালরে কবে ফিরছিস?
– রবিবার, দশ তারিখ। ভোর বেলায় ফ্লাইট।
– তোকে আর একবার আসতে হবে। অনেক কথা আছে। শনিবার একবার আসার চেষ্টা করিস।
‘চেষ্টা করব’ বলে সেদিন বাড়ি চলে এসেছিলাম।
দেখতে দেখতে সময় কেটে গেল। ফেরার আগের দিন মন্টুদার সাথে দেখা করার কথা কিছুতেই বার করতে পারছিলাম না। বারবার মনে হচ্ছে, নিশ্চয়ই বিশেষ কিছু বলার আছে। যাবার আগের দিনের ব্যস্ততা – তবু এক ফাঁকে বিকেল বেলা খানিকটা কৌতূহল নিবৃত্ত করতেই মন্টুদার সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। আমাকে দেখেই একগাল হেসে বললেন, – আসতে পারবি, ভাবতে পারিনি। তকে কিছু কথা বলার ছিল। চা খাবি?
– সে পরে হবে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে মন্টুদা বলতে আরম্ভ করলেন, – আমি হয়ত বেশী দিন আর বাঁচব নে রে। ওর চোখ ছলছল করে উঠল। – হার্টের গণ্ডগোল। ডাক্তার দেখালাম। অনেক বড় বড় ডাক্তার। তারা রায় দিলেন যে খুব বেশী হলে দশ বছর। পলাশ, মাই ডেজ আর নাম্বারড! তুই বল, জেনে শুনে একটা মেয়ের ভাগ্য আমার সঙ্গে জোড়া কি উচিৎ?

আমি কেমন থতমত খেয়ে মন্টুদাকে কি বলব বুঝতেই পারছিলাম না। কোন রকমে বললাম, – তুমি এত নিরাশ হচ্ছ কেন? তোমার অসুখের চিকিৎসা কি পৃথিবীর কোথাও নেই?
– না রে। তুই কি ভাবছিস মৃত্যুকে আমি এত সহজে জিততে দিচ্ছি? চিকিৎসা নেই রে। গত মাসে দশ বছর হয়ে গেল। এখন ত বোনাস!
তুমি আমাকে আগে কেন বলনি, মন্টুদা। এর আগে ত কতবার তোমার সাথে কথা হয়েছে। এতদিন কথাটা চেপে রাখলে? বরাহনগরে মাসীমা-মেসোমশাইরা জানেন?
– না রে। ওদের বয়স হয়েছে – বলতে পারিনি। তা’ ছাড়া আমি তো চিরদিনই বাবাকে দুঃখ দিয়ে এলাম। বাবার ব্যবসাটা দেখলাম না। বিয়ে করলাম না – তাঁদের পছন্দ করা মেয়েও না, নিজের পছন্দ করা মেয়েও না। মা’র আক্ষেপ, আমার পর মজুমদার বংশে বাতি দেবার কেউ থাকবে না। কি করে তাঁদের বলব যে বংশে বাতি দেবার জন্য আমিও বেশী দিন নেই।
বাড়ি ফিরে চোখের জল আর ধরে রাখতে পারলাম না। রাতে ঘুম হল না। সকলে ভাবল কলকাতা ছেড়ে যেতে মন কাঁদছে। সকাল বেলা মা-বাবাকে প্রণাম করে বেরিয়ে পড়লাম।
বাঙ্গালরে পৌঁছে বাড়িতে ফোন করলাম। আমি বিশেষ কিছু বলার আগেই মা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, – মন্টু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওকে ‘বেল্‌ভিউ’তে ভর্তি করা হয়েছে। তোর ফোনের অপেক্ষায় ছিলাম। আমি এখন হাসপাতালে যাচ্ছি। তোর বাবা ওখানেই আছেন।

মাঝরাতে মা ফোন করলেন, – হাউ হাউ করে কাঁদছেন। মন্টুটা মারা গল রে। জলজ্যান্ত ছেলেটা চলে গেল। আর আমরা পড়ে আছই।
আমি কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। চোখের সামনে সব কিছু ভেসে আসছে। মন্টুদার সঙ্গে প্রথম দিনের আলাপ থেকে চলে আসার আগের দিন পর্যন্ত। ফোন রাখার পর আমিও কান্নায় ভেঙ্গে পড়লাম। নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে হল। আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধব সকলকে ছেড়ে এত দূরে থাকার কষ্টটা তীব্রতর বোধ হল।
পরদিন আবার কলকাতা চলে এলাম। সব কিছু কেমন থমকে গেছে মনে হল। এয়ারপোর্টে দেখি ফচকে এসেছে। যার মুখে সব সময়ে হাসি লেগেই থাকত, পেছনে লাগা যার একমাত্র কাজ মনে হত সবার, তার চোখেও জল। ও এগিয়ে এসে বলল, – তোমার জন্যই সবাই অপেক্ষে করছে। সোজা নিমতলা চল।\

গাড়িতে যেতে যেতে সেদিনই প্রথম জানলাম যে ফচকে হাইয়ার সেকন্ডারী পরীক্ষায় সেকেন্ড ডিভিশন টুকে পায়নি, যদিও সকলকে ও তাই বলে বেড়িয়েছে এতদিন। মন্টুদা ওকে গোপনে পড়াত।
শ্মশানে গিয়ে দেখি আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধব ছাড়াও কয়েক শ’ লোকের ভিড়। ওরা আমাদের পাড়ার পাশের বস্তিতে থাকে। ‘মন্টু স্যার’ কে ওরা প্রণাম করতে এসেছে। মন্টুদা অফিস ফেরতা রজ ওদের পড়াতে যেত। ওখানেই মন্টুদা পড়াতে পড়াতে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।

কয়েকদিন পর কর্মস্থলে ফিরে আসতেই হল। এর আগে কলকাতা ছাড়ার সময় মনে হত, মন্টুদা ত আছেনই মা-বাবার কোনো দরকার হলে। এবার কেমন অসহায় মনে হল নিজেকে। কেমন স্বার্থপর মনে হল।

কয়েকদিন পর বরাহনগর থেকে একটা চিঠি পেলাম। মন্টুদার বাবার লেখা।

কল্যাণবরেষু পলাশ,
আজ একমাস হল মন্টুকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে জীবনের শেষ কটা দিন গুনছি। পাপ-পুণ্য কি তা’ বুঝতে পারছি না। ঠাকুর-দেবতা চিরকাল মেনে এসেছি। সৎ পথে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। তবু আমাদের ঘর শূন্য হয়ে গেল। তাই আজ ভাবছি, এতদিন যে ইষ্টদেবতা পুজো করে এলাম, সে কোন দেবতা?

আজ জানলাম, মন্টু একটা ট্রাস্ট ফান্ড করে গেছে। তোমাদের পাড়ায় গরীব ছেলেমেয়েদের জন্য একটা ‘লার্নিং সেন্টার’ গড়বে বলে। তোমাকে তার এক্সিকিউটর করে গেছে। তোমার মাসীমা এবং আমি ঠিক করেছিলাম শেষ কটা দিন তীর্থ করে কাটিয়ে দেব। ব্যবসাটাও বিক্রি করে দেও ভেবেছিলাম। তার প্রস্তুতিও প্রায় হয়ে এসেছিল। কিন্তু আজ এক নতুন তীর্থের সন্ধান মন্টু আমাদের দিয়ে গেছে। মন্টুর এই ইচ্ছেটা পূরণ করার জন্য আমিও তোমার পাশে দাঁড়াব। পরের জন্য অনেক সুন্দর সুন্দর বাড়ি আমি তৈরি করেছি। আমার শেষ কাজ হবে মন্টুর স্মরণে আমার সর্বস্ব দিয়ে।
তুমি কলকাতায় কবে আসবে জানিও। বেশী দেরী কোরো না। শেষ কাজটা শেষ করে যেতে চাই।

ভাল থেকো।

ইতি,

আঃ অমিয় রঞ্জন মজুমদার

আমার কাছে মন্টুদা চিরদিনই ‘লার্নিং সেন্টার’ ছিলেন। আজ মনে হল মন্টুদা সবার জন্য ‘লার্নিং সেন্টার’ হয়ে বেঁচে থাকবেন। কখন জানিনা, কাগজ বার ফেলেছি – রেজিগ্‌নেশন লেটারটা লেখার জন্য।

Copyright © 20042021, Raktim Sen